নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩ মে ২০২৬
ঢাকা: দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বড় ধরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ক্লাউড প্রযুক্তির সমন্বয়ে নির্বাচিত ১৫০টি সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০০টি নতুন ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপন করা হচ্ছে। চীন সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপগুলো দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। এটি সম্পূর্ণ চীন সরকারের অনুদানে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (Feasibility Study) ইতোমধ্যে সফলভাবে শেষ হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই মাঠ পর্যায়ে এর বাস্তবায়ন শুরু হবে।
মাউশির প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রতিটি নির্বাচিত বিদ্যালয়ে দুটি করে ইন্টারেক্টিভ এডুকেশন প্যানেল (IEP) সরবরাহ করা হবে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ক্লাসরুমগুলোতে থাকবে স্বয়ংক্রিয় রেকর্ডিং ব্যবস্থা। এর ফলে:
অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠদান ভিডিও আকারে ক্লাউড প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত থাকবে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই এই মানসম্মত ক্লাসগুলো দেখার সুযোগ পাবে।
শিক্ষার্থীরা কিউআর কোড (QR Code) স্ক্যান করে মুহূর্তেই ক্লাসের ডিজিটাল নোট ও কোর্সওয়্যার সংগ্রহ করতে পারবে।
প্রকল্পের আওতায় কেবল ক্লাসরুমই নয়, বরং সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। এর মধ্যে রয়েছে:
৩০০টি নতুন স্মার্ট ক্লাসরুম এবং বিদ্যমান ৩০০টির মৌলিক সংস্কার।
১০টি আধুনিক রেকর্ডিং স্টুডিও এবং ৩০টি সরকারি শিক্ষা দপ্তরে বিশেষ মিটিং রুম।
মাউশি প্রাঙ্গণে একটি অত্যাধুনিক কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার স্থাপন, যা সারা দেশের স্মার্ট শিক্ষাদান কার্যক্রমকে সংযুক্ত করবে।
মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, “বিদেশের সাথে তাল মিলিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষার আধুনিকায়নে চীন সরকার ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছে। এই ক্লাসরুমগুলোতে বিশ্বমানের সব সুবিধা থাকবে, যা শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণধর্মী ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান আহরণে উৎসাহিত করবে।”
মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রফেসর ড. মীর জাহীদা নাজনীন বলেন, “ডাটা সেন্টারের জায়গা নির্ধারণের বিষয়ে আমরা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে (বিসিসি) পত্র দিয়েছি। এটি চূড়ান্ত হলেই চীন সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া যাবে। আমরা প্রকল্পটি ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত করতে পরিকল্পনা কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছি।”
বৃহৎ এই প্রকল্প শুরুর আগে পরীক্ষামূলকভাবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের ‘এক শ্রেণিকক্ষ, এক স্মার্ট বোর্ড এবং এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনাপত্তি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে বগুড়ার বেতগাড়ী মীর শাহ আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং চাঁদপুরের ওবায়দুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে এই পাইলট কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
উপসংহার:
বিগত দিনের মুখস্থ নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের ‘স্মার্ট সিটিজেন’ হিসেবে গড়ে তুলতে এই প্রকল্প যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। এআই ও ক্লাউড প্রযুক্তির এই সংযোজন ডিজিটাল বিভাজন কমিয়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং বাসস (BSS)।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |